সোমবারে সাত সকালে ডাবল মার্ডারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল উদয়পুরের বেলতলী এলাকায়। মানসিক ভারসাম্যহীনতার জেরে ঘুমন্ত স্ত্রী ও ১৮ বছরের পুত্র সন্তানকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল পেশ...
সোমবারে সাত সকালে ডাবল মার্ডারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল উদয়পুরের বেলতলী এলাকায়। মানসিক ভারসাম্যহীনতার জেরে ঘুমন্ত স্ত্রী ও ১৮ বছরের পুত্র সন্তানকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল পেশায় শিক্ষক অজিত দাসের বিরুদ্ধে। সোমবার ভোরে আর কে পুর থানাধীন মাতারবাড়ি সংলগ্ন বেলতলী এলাকায় এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। মৃতদের নাম রূপা দাস বয়স আনুমানিক ৪৫ এবং দিগন্ত দাস বয়স ১৮। ঘাতক অজিত দাস নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পেশায় শিক্ষক অজিত দাস দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং তাঁর চিকিৎসাও চলছিল। সোমবার ভোররাত আনুমানিক ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে যখন স্ত্রী ও পুত্র গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখন আচমকাই লাঠি নিয়ে তাঁদের ঘরে চড়াও হন অজিত বাবু। মশারির ভেতরেই মা ও ছেলেকে লক্ষ্য করে লাঠি দিয়ে মাথায় বারংবার আঘাত করতে থাকেন তিনি। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, আগরতলার ইকফাই ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ছাত্র দিগন্ত দাস ও তাঁর মা রূপা দাস বিছানাতেই প্রাণ হারান। ঘটনার পর অজিত দাস নিজে কীটনাশক পান করে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার শুনে বাড়িতে ছুটে এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতেই শিউরে ওঠেন। বিছানায় মা ও ছেলের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিসে খবর দেন স্থানীয়রা । পুলিস ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত অজিত দাসকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গোমতী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। মহকুমা পুলিস আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্তের অবস্থা স্থিতিশীল। কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে আর কে পুর থানার পুলিস। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।