ভোট পর্ব সাঙ্গ হতেই উৎসব মুখর হয়ে উঠল জনজাতি এলাকাগুলি। রাজ্যের প্রত্যন্ত জনপদগুলিতে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে জমাতিয়া হদা সম্প্রদায়ের হাঁড়ি বিশু উপলক্ষে বাবা গড়িয়া পূজা । অন্যান্য বছরের মত সোমবার...
ভোট পর্ব সাঙ্গ হতেই উৎসব মুখর হয়ে উঠল জনজাতি এলাকাগুলি। রাজ্যের প্রত্যন্ত জনপদগুলিতে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে জমাতিয়া হদা সম্প্রদায়ের হাঁড়ি বিশু উপলক্ষে বাবা গড়িয়া পূজা । অন্যান্য বছরের মত সোমবার থেকে গোমতী জেলার কিল্লার পিত্রাকামি এলাকাতেও শুরু হয়েছে বাবা গড়িয়া পূজা।
রাজ্যের জনজাতিরা আজও বাঁশ কে সম্পদ হিসেবে মনে করেন। শুধু তাই নয় ,গ্রামের মানুষদের সুস্বাস্থ্য এবং ফসল বৃদ্ধির প্রতীক বলেও বাঁশকে মনে করেন তারা। আর সেই জন্য হাঁড়ি বিশু থেকে তারা বাবা গড়িয়া পূজোর আয়োজন করে থাকেন । এই পুজো সাত দিন চলে । মূলত জনজাতিদের মধ্যে জমাতিয়া হদা সম্প্রদায়ের লোকেরাই চিরাচরিত রীতিনীতি ও কৃষ্টি সংস্কৃতি মেনে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাবা গড়িয়া পূজোর আয়োজন করে থাকেন । অন্যান্য বছরের মতো এবারও গোমতী জেলার কিল্লার পিত্রাকামি এলাকায় জমাতিয়া হদা সম্প্রদায়ের উদ্যোগে হাঁড়ি বিশু উপলক্ষে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বাবা গড়িয়া পুজো । বাবা গড়িয়া পূজা উপলক্ষে সোমবার সকাল থেকেই গ্রামবাসীরা একটি মাঠে সমবেত হন । সেখানে বাঁশের খুটির সঙ্গে ফুল,মালা ,সুতির সুতো ও মাটির হাড়ি দিয়ে বাবা গড়িয়া পূজোর আয়োজন শুরু করেন । একই সঙ্গে চলে জমাতিয়া হদা সম্প্রদায়ের জনগণের ঢোল এবং বাশির তালে তালে কীর্তন ।এদিন বাবা গড়িয়া পূজা উপলক্ষে পূজার প্রধান পুরোহিত জানান ,ত্রিপুরার অন্যতম প্রাচীন ও প্রধান উৎসব হল বাবা গড়িয়া পূজা । মূলত জনজাতিদের উৎসব হলেও বর্তমানে বাবা গড়িয়া পুজো রাজ্যের সংস্কৃতিতে সার্বজনীন উৎসব হিসেবে পালিত হয়। পরিবার ,গ্রাম এবং সমাজের মঙ্গল কামনায় সাত দিন ধরে এই পুজো চলে বলে জানান তিনি।
পরিবার এবং সমাজের মঙ্গল কামনার পাশাপাশি ভাল ফসলের জন্য ও বাবা গড়িয়ার কাছে প্রার্থনা করা হয়। পূজোর ৭ দিন ধরে চলে বিভিন্ন ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।